
রাজধানীর কোতয়ালী থানায় দায়েরকৃত একটি অপহরণ, মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান সাগর (৪৪)’কে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে।
গত ১৪/০৯/২০২৫ তারিখ সকাল অনুমান ১২.০০ ঘটিকায়, ব্যবসায়ী খন্দকার আবুল বাশার (৪২) ও তার ভাগিনা শুভ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ঢাকা-তে একটি প্রতারণা মামলার হাজিরা শেষে আদালত চত্বর ত্যাগ করার সময় আসামি আসাদুজ্জামান সাগরসহ অন্যান্য সহযোগীরা তাদের পথরোধ করে। এ সময় তাদের এলোপাতাড়ি মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে, আসামি আসাদুজ্জামান সাগর তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে ভিকটিম শুভ’র বাম চোখের ভ্রুতে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে, ব্যবসায়ী বাশার ও তার ভাগিনা শুভকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০,০০০ টাকা দাবি করা হয় এবং ভিকটিমদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৩টি ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। ভিকটিমদের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে ৩৯,০০০/- টাকা পাঠাতে বাধ্য হয়। একইসাথে, ভিকটিম শুভকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আরও ১২,০০,০০০/- টাকা পাওনার স্বীকারোক্তি জোরপূর্বক মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাদের একটি রিকশায় তুলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় খন্দকার আবুল বাশার কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে, গত ১৫/০৯/২০২৫ তারিখে কোতয়ালী থানায় মামলা নং- ১০, ধারা- ৩৪১/৩৬৫/৩৮৪/৩৮৫/৩৮৬/৩২৩/৩২৪ পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক বরাবর একটি অধিযাচন পত্র প্রেরণ করেন। এর ভিত্তিতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, অদ্য ২৪/০৯/২০২৫ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২.১০ ঘটিকায় র্যাব-১০ এর আভিযানিক দল ডিএমপি, ঢাকার লালবাগ থানাধীন নবাবগঞ্জ এলাকা থেকে মামলার আসামি আসাদুজ্জামান সাগর (৪৪), পিতা- মৃত জোনাব আলী, সাং- শালমারা, থানা- বালিয়াকান্দি, জেলা- রাজবাড়ী’কে সফলভাবে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।