শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

জেলা শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষিকার অপরাধের দায় চাপিয়ে দিলেন সহকারী শিক্ষিকার উপর

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি কাজী পলাশ
  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘর কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডলের অপরাধের দায় চাপিয়ে দিয়ে সহকারী শিকিকা তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে প্রতিবেধন দিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ জ্যোৎস্না খাতুন। আর এতে সহযোগিতা করেছেন কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিব হাসান মুন্সি ও সৈয়দ আহসান এবং বিতর্কিত চাঁদাবাজ কথিত সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেছে সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণ আচারণ করেন কিন্তু ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল অভিভাবকের সঙ্গে খারাপ আচারণ করছে কিন্তুু সেই অপরাধ সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর উপর চাপিয়ে দিয়ে প্রতিবেদনে দিয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে তার নিজের বাচ্চা এবং অন্য কোমল মতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল মোবাইল দেখিয়ে নিজের বাচ্চা কে খাবার খাওয়াচ্ছে। সেই দায়ও শিক্ষা অফিসার সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন! আরো একটি ভিডিওতে প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল স্কুল রুমে পাটি বিছিয়ে নিজের বাচ্চা কে ঘুম পড়াচ্ছেন সেটিও শিক্ষা অফিসার সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর উপর দায় চাপিয়ে দিয়ে প্রতিবেদনে দিয়েছেন, প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল শ্রেণী কক্ষে পার্টিশন তৈরি করে গ্যাসের চুলা, বাচ্চার খেলাধুলার সামগ্রী, নিজের ব্যবহারের কাপড় সহ নিজে কক্ষ ব্যবহার করেন কিন্তুু তদন্ত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ ব্যবহার করছে। প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডল সে গামছা শরীরে পেচিয়ে শ্রেণী কক্ষে পাঠদান ও শ্রেণী কক্ষে টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে থাকার দৃশ্য সহ বিভিন্ন অপরাধ করা স্বত্বেও তাকে তদন্তের বাইরে রেখে সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর উপর দায় চাপিয়ে মিথ্যা বানোয়াট তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ জ্যোৎস্না খাতুন।

গত ০৩/১২/২৫ তারিখ ৬ নং ঘাঘর কান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে এলাকা বাসির ভূয়া সাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা শিক্ষা দপ্তর থেকে তদন্ত করে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর দাখিল করেন সেই অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার।

সূত্র বলছে এলাকার বিতর্কিত ও চাদাবাজ কথিত সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল এবং সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিব হাসান মুন্সি ও সহকারী শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহসান মিলে সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈর ও তার স্বামিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিন লক্ষ টাকা চাদা দাবি করেন। সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ এক লক্ষ পঁচানব্বই হাজার চার শত টাকা তপতী বাড়ৈর নিকট হতে বিভিন্ন সময় হাতিয়ে নেয় ঐ চক্র টি।
পরে আরো টাকা দাবি করেন বলে জানান সহকারী শিক্ষিকা তপতী বাড়ৈ তিনি আরো বলেন চাহিদাকৃত সম্পূর্ণ টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ সাজিয়ে তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ জ্যোৎস্না খাতুন।

এবিষয় কোটালীপাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার হাবিব হাসান মুন্সির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমি লিখেছি আমি নিজে কিছু লিখিনি এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয় তিনি এড়িয়ে যান।
অপর সহকারী শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহসান জানান আমরা অভিযোগ কারিদের কাছ থেকে যেটা পেয়েছি তাই লিখেছি এবং অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কোটালীপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোছাঃ জ্যোৎস্না খাতুন বলেন আমি ঐ স্কুলে একবার গিয়েছি তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমার নিকট তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করে পাঠিয়েছে আমি সে মোতাবেক তদন্ত রিপোর্ট তৈরী করেছি তিনি আরো বলেন প্রধান শিক্ষিকা নমিতা মন্ডলের বিরুদ্ধে যদি কেউ অভিযোগ দেন তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধ ব্যবস্থানেওয়ার আশ্বাস দেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর